ইফতারে কোন দেশের মানুষ কী খায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক এজেড নিউজ বিডি, ঢাকা
ইফতারে কোন দেশের মানুষ কী খায়
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীজুড়ে মুসলিমদের কাছে ইফতার একটি ধর্মীয় সাংস্কৃতিক উৎসব। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ইফতারকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এক দেশের মানুষ একভাবে ইফতার সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। আজ এমন কয়েকটি দেশের কথা জানা যাক।

মিশর: রহস্যঘেরা পিরামিড আর নীলনদের দেশ মিশর। এই দেশে প্রায় নয় কোটি মুসলিমের বসবাস। প্রায় ৭৯ শতাংশ মুসলিমের দেশ মিশরে ইফতার মানেই একধরনের আনন্দ-উৎসব। এদেশে মুসলিমরা ইফতারের সময় মৃদু আলো দেয় এমন রঙ্গিন লণ্ঠন জ্বালিয়ে রাখে। শুধু তাদের বাড়িতে নয়, পুরো রমজান জুড়ে সেখানকার পথেঘাটেও বিভিন্ন ধরনের রঙ্গিন আলো জ্বলতে দেখা যায়। খাবার টেবিলে সাজানো থাকে নানা রকম খাবার।

উল্লেখযোগ্য হলো ‘আতায়েফ’ ও ‘কুনাফা’। আতায়েফ হচ্ছে এক ধরনের প্যানকেক অপরদিকে কুনাফা এক ধরনের সিরাপ। এই দুইটা খাবার মিশরীয় মুসলমানদের ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলা যেতে পারে। অনেকে বাদামি রুটি, মটরশুঁটি, টমেটো, বাদাম ও অলিভ অয়েল দিয়ে তৈরি করে করে ‘ফুল মেদেমাস’। এছাড়া তারা ইফতারে এপ্রিকটস ফল দিয়ে তৈরি কামার-আল-দিনান্দ আরায়সি এবং দুধ, ভ্যানিলা ও নারিকেল দিয়ে তৈরি সোবিয়া নামক পানীয় পান করেন। খাবার টেবিলে আরও থাকে নানারকম ফল, ফলের রস এবং সবজি।

ইরান: ৯২ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ইরানে ইফতারে থাকে রুটি, স্যুপ, র‍্যাপ, কাবাবের মতো খাবার। এ ছাড়া ইরানের ঘরে ঘরে তৈরি হয় জাফরানের ঘ্রাণযুক্ত এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী পার্শিয়ান হালুয়া। আরও থাকে জাফরান চাল দিয়ে তৈরি ‘শোলেহ জার্দ’। যা এক ধরনের পুডিং। পার্শিয়ান নুডুলস, সবজি, পেঁয়াজ, বিন ইত্যাদি দিয়ে তৈরি আশ রাসতেহ নামক ঘন স্যুপ ও হালিমও ইরানের মানুষ খায়। ইরানিদের ইফতারির মধ্যে আরও রয়েছে, স্যান্ডউইচ, চা, তাবরেজি চিজ, জুলবিয়া। ইফতারের অন্যতম প্রধান উপাদান হচ্ছে খেজুর।

আলজেরিয়া:ইফতারে আলজেরিয়ান মুসলিমরা খায় পিজ্জা ‘সোয়ারবা’, সবজি রোল, বিভিন্ন ধরনের স্যুপ। এ ছাড়াও ইফতারে থাকে আলু ও সবজি দিয়ে তৈরি দোলমা। ইফতারের পরে মাগরিবের নামাজ আদায় করে আলজেরিয়ার মানুষ বাদাম দিয়ে তৈরি ‘সিগার’ নামক এক ধরনের পানীয় পান করে।

তুরস্ক: মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর মতোই তুরস্কে ইফতারের অপরিহার্য উপাদান খেজুর। সেইসাথে, বিভিন্ন ফলমূল, শরবত, হরেক রকম কাবাবও থাকে। টাকিশ অন্যান্য খাবারের মধ্যে তারা খায় পিদেসি, যা মূলত এক ধরনের রুটি। দুধ, মাখন, জলপাইয়ের খামির থেকে তৈরি হয় এই রুটি। এর ভেতরে ডিম ও গরুর মাংসের পুর দিয়ে সেটিকে চুলায় বেক করা হয়।

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

ইফতারে কোন দেশের মানুষ কী খায়

ইফতারে কোন দেশের মানুষ কী খায়
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীজুড়ে মুসলিমদের কাছে ইফতার একটি ধর্মীয় সাংস্কৃতিক উৎসব। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ইফতারকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এক দেশের মানুষ একভাবে ইফতার সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। আজ এমন কয়েকটি দেশের কথা জানা যাক।

মিশর: রহস্যঘেরা পিরামিড আর নীলনদের দেশ মিশর। এই দেশে প্রায় নয় কোটি মুসলিমের বসবাস। প্রায় ৭৯ শতাংশ মুসলিমের দেশ মিশরে ইফতার মানেই একধরনের আনন্দ-উৎসব। এদেশে মুসলিমরা ইফতারের সময় মৃদু আলো দেয় এমন রঙ্গিন লণ্ঠন জ্বালিয়ে রাখে। শুধু তাদের বাড়িতে নয়, পুরো রমজান জুড়ে সেখানকার পথেঘাটেও বিভিন্ন ধরনের রঙ্গিন আলো জ্বলতে দেখা যায়। খাবার টেবিলে সাজানো থাকে নানা রকম খাবার।

উল্লেখযোগ্য হলো ‘আতায়েফ’ ও ‘কুনাফা’। আতায়েফ হচ্ছে এক ধরনের প্যানকেক অপরদিকে কুনাফা এক ধরনের সিরাপ। এই দুইটা খাবার মিশরীয় মুসলমানদের ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলা যেতে পারে। অনেকে বাদামি রুটি, মটরশুঁটি, টমেটো, বাদাম ও অলিভ অয়েল দিয়ে তৈরি করে করে ‘ফুল মেদেমাস’। এছাড়া তারা ইফতারে এপ্রিকটস ফল দিয়ে তৈরি কামার-আল-দিনান্দ আরায়সি এবং দুধ, ভ্যানিলা ও নারিকেল দিয়ে তৈরি সোবিয়া নামক পানীয় পান করেন। খাবার টেবিলে আরও থাকে নানারকম ফল, ফলের রস এবং সবজি।

ইরান: ৯২ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ইরানে ইফতারে থাকে রুটি, স্যুপ, র‍্যাপ, কাবাবের মতো খাবার। এ ছাড়া ইরানের ঘরে ঘরে তৈরি হয় জাফরানের ঘ্রাণযুক্ত এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী পার্শিয়ান হালুয়া। আরও থাকে জাফরান চাল দিয়ে তৈরি ‘শোলেহ জার্দ’। যা এক ধরনের পুডিং। পার্শিয়ান নুডুলস, সবজি, পেঁয়াজ, বিন ইত্যাদি দিয়ে তৈরি আশ রাসতেহ নামক ঘন স্যুপ ও হালিমও ইরানের মানুষ খায়। ইরানিদের ইফতারির মধ্যে আরও রয়েছে, স্যান্ডউইচ, চা, তাবরেজি চিজ, জুলবিয়া। ইফতারের অন্যতম প্রধান উপাদান হচ্ছে খেজুর।

আলজেরিয়া:ইফতারে আলজেরিয়ান মুসলিমরা খায় পিজ্জা ‘সোয়ারবা’, সবজি রোল, বিভিন্ন ধরনের স্যুপ। এ ছাড়াও ইফতারে থাকে আলু ও সবজি দিয়ে তৈরি দোলমা। ইফতারের পরে মাগরিবের নামাজ আদায় করে আলজেরিয়ার মানুষ বাদাম দিয়ে তৈরি ‘সিগার’ নামক এক ধরনের পানীয় পান করে।

তুরস্ক: মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর মতোই তুরস্কে ইফতারের অপরিহার্য উপাদান খেজুর। সেইসাথে, বিভিন্ন ফলমূল, শরবত, হরেক রকম কাবাবও থাকে। টাকিশ অন্যান্য খাবারের মধ্যে তারা খায় পিদেসি, যা মূলত এক ধরনের রুটি। দুধ, মাখন, জলপাইয়ের খামির থেকে তৈরি হয় এই রুটি। এর ভেতরে ডিম ও গরুর মাংসের পুর দিয়ে সেটিকে চুলায় বেক করা হয়।

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Download
ঠিকানা: মনসুরাবাদ হাউজিং, ঢাকা-১২০৭ এজেড মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।